ঔষধের উপর খাবারের প্রভাব

মেডিসিনের সাথে খাবারের সম্পর্ক একদম ডাইরেক্ট। কারণ দুইটারই শরীরে গিয়ে এক সাথে সাক্ষাত হয়। এই বিষয়গুলো আমাদের মত দেশে গুরুত্বসহকারে দেখা হয় না। কিন্তু দেশের বাইরে ড্রাগ-ফুড ইন্টারেকশন অনেক গুরুত্বসহকারে দেখা হয়। নিচের লেখাটি দারুণ ইনফরমেটিভ এই ক্ষেত্রে। সচেতন পাঠক পড়ে দেখবেন।
কেবল এক ঔষধের কার্যকারিতায় যে অন্য ঔষধ প্রভাব ফেলতে পারে তা নয়, বরং খাবারও অধিকাংশ ঔষধের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। আমাদের মধ্যে একটি সাধারণ ধারণা এই যে, যেহেতু অধিকাংশ খাবার প্রাকৃতিকভাবে চাষাবাদের মাধ্যমে পাওয়া যায়, সেহেতু এসকল খাবারে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ইন্টারেকশন বা ক্ষতি নেই। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিষয়টা তেমন নয়। ফল, শাক-সবজিসহ প্রায় সব প্রাকৃতিক খাবারই ঔষধের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিতে থাকেন বয়স্ক রোগী বা সিনিয়র সিটিজেনরা। কেননা তাদের ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, উচ্চ-রক্তচাপ, উদ্বিগ্নতা, অধিক কোলেস্টেরল, পারকিনসন রোগ সহ একাধিক সমস্যায় বেশ কয়েকটি ঔষধ একসাথে গ্রহণ করতে হয়। আবার যেসকল রোগীর লিভার, কিডনী বা পাচনতন্ত্রে সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ড্রাগ-ফুড ইন্টারেকশন বেশ বাড়াবাড়ি রকমের হয়ে থাকে। ঔষধ মুখে সেবন করার পর যেভাবে তা পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে, একইভাবে খাবারও পরিপাকতন্ত্রেই প্রবেশ করে। খাবার এবং ঔষধ একইসাথে খেলে হয় খাবার ঔষধের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে, নাহয় ঔষধ খাবারের শোষণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ঔষধ মূলত চারটি ধাপে কাজ করে। প্রথমত, পাকস্থলীতে ঔষধ গ্রহণ করার মত আকারে দ্রবীভূত হয়। দ্বিতীয়ত, তা রক্তে শোষিত হয়ে রক্তের মাধ্যমে টার্গেটেড সাইটে পৌছায়। তৃতীয়ত, শরীর ঔষধের প্রতি সাড়া দেয়, আর এভাবেই ঔষধের কার্যকারিতা শুরু হয়। চতুর্থত, ঔষধ শরীর থেকে কিডনী ও লিভার বা উভয় দ্বারা শরীর থেকে বের হয়ে যায়। এই চার ধাপের যেকোন ধাপেই খাবার প্রভাব ফেলে যেকোন ঔষধের কার্যকারিতায় পরিবর্তন আনতে পারে। তাই বলে সব খাবারই যে সব ঔষধের উপর প্রভাব ফেলে তা কিন্তু নয়। যদিও এ নিয়ে খুব কম গবেষণাই হয়েছে, তবুও কিছু অতি-পরিচিত খাবার আছে যেগুলো ঔষধের উপর লক্ষনীয় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *